Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C

সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩০ মে ২০২৪

ইতিহাস ও কার্যাবলি

ঢাকার নামকরণের ইতিহাস

 

ঢাকার নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো, তাই রাজা, মন্দিরের নাম রাখেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। আবার অনেক ঐতিহাসিকের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন; তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশস্বরূপ শহরে 'ঢাক' বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্তির রূপ নেয় এবং তা থেকেই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, মোঘল সাম্রাজ্যের বেশ কিছু সময় ঢাকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর নামে পরিচিত ছিলো।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা ইতিহাস ও কার্যাবলী

 

          নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ অঞ্চল যা মধ্য অঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। প্রায় ৭০৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে পশ্চিমে ঢাকা পূর্বে মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদী, দক্ষিনে মুন্সিগঞ্জ ও উত্তরে নরসিংদী, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে ৭টি থানা নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লা , সিদ্দিরগঞ্জ ,বন্দর, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, ও রুপগঞ্জ নিয়ে  বিস্তৃত এই নারায়ণগঞ্জ জেলা। প্রধান নদী হিসেবে পদ্মা, মেঘনা ও বুড়িগঙ্গা অবস্থিত এই অঞ্চলে।

          ১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বিকন লাল পান্ডে  ওরুফে বেণুর ঠাকুর বা লক্ষী নারায়ণ নামে ও পরিচিত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে অঞ্চলের মালিকানা গ্রহন করেন। তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয় ভার বহনের জন্য একটি দলিলের মধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষনা করেন। তাই পরবর্তীকালে এ স্থানের নাম লক্ষী নারায়ণের নাম অনুকরনে নারায়ণগঞ্জ রাখা হয়।

          সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ নামের কোনো নগরীর অস্তিত্ব প্রাচীন বাংলার মানচিএে পাওয়া যায়নি। এই নারায়ণগঞ্জে চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীনতম ঐতিহ্যসহ নানা ধরনে প্রকৃতিক সুর্ন্দযের প্রতীক। সোনালী আশঁ পাটের জন্য প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে পরিচিত। শীতলক্ষ্যা নদীর পারে অবস্থিত একটি বিখ্যাত নদী বন্দর। এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আদমজী পাটকল নারায়ণগঞ্জ জেলায় অতিবাহিত ছিলো। এখনো  বাংলাদেশের জনপরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলার বিখ্যাত শিল্প এলাকা বিসিক। নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত ঈশা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁ যা নারায়ণগঞ্জের এক ঐতিহ্য। প্রাচীন বাংলার রাজধানী  হিসেবে পরিচিত ছিলো সোনারগাঁ এবং সোনারগাঁ নাম অনুকরন করা হয় সুবর্ন গ্রামকে কেন্দ্র করে।

          শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনাররগাঁ দখল করেন ১৩৫২ খৃস্টাব্দে। সেখান থেকে জারি করা হয় মুদ্রা। সুদুর বাগদাদ নগরী থেকে দিল্লী আধ্যাত্মিক সাধু সম্রাট শাহ ফতেহউল্লাহ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য এখানে আসেন।পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পরে এখানে কবরস্ত করা হয়। তার নাম থেকেই বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত সুফী সাধকের স্মৃতি বিজড়িত এক সময় পরগণা নামে পরিচিত এই এলাকার নামে অঞ্চল ফতেহউল্লাহ বা ফতুল্লা  নামকরন করা হয়। এবং বিভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়েই আলোচিত অঞ্চল আমাদের নারায়ণগঞ্জ। ট্যুরিস্ট পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জোন গঠণঃ ২০১৮ সালের ২৫ শে জুন ট্যুরিস্ট পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জোন এর কার্যক্রম শুরু হয় । দর্শনার্থী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণই এই জোন এর মূল লক্ষ্য।

 

মুন্সিগঞ্জ জেলার ইতিহাস

            

          অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশের অন্যতম বিক্রমপুর একটি প্রাচীন  সমৃদ্ধ জনপদের নাম। সৌন্দর্যের অপরুপ মুন্সিগঞ্জ পদ্মাব্রীজ-জোনের আওতাধীন শিমুলিয়া ফেরিঘাট, এ ঘাটে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে স্বপ্নের পদ্মাসেতু সহ পদ্মা নদীর আকাবাকা বিরল দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পদ্মানদীর নির্জনতা ঘিরে প্রকৃতির কোলে অথৈ জলরাশির মেলা, বনভূমির শীতল পরশ, নদীর নীরবতা মায়াবী পরিবেশ আর ঢেউয়ের রাশি রাশি কনা উৎফুল্ল করে তোলে পর্যটকদের মন। ইদ্রাকপুর দূর্গ মুন্সিগঞ্জ শহরে অবস্থিত একটি মোঘল স্থাপত্য। রসুবাদা ও সেনা পতী মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রিঃ বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে তদান্তীন ইছামতি নদীর পশ্চিম তীরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই দূর্গটি নির্মাণ করেন। ৮২ মিটার দৈঘ ৭২ মিটার আয়তকার নির্মিত ইটের তৈরী। এই দূর্গটি তৎকালীন মগ জলদস্যু ও পর্তুগিজ আক্রমনের হাত থেকে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ সমগ্র এলাকাকে রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়। সুরঙ্গ পথে ঢাকা লালবাগের কেল্লার সাথে যোগাযোগ ছিল বলে প্রচলিত আছে। সুউচ্চ প্রাচীর বিশিষ্ট এই দূর্গের প্রত্যেক কোনায় রয়েছে একটি বৃত্তকার বেষ্টনী। এক মাত্র খিলানাকার দরজাটি অবস্থান উত্তর দিকে পূর্ব দিকে দেয়ালের মাঝামাঝি ৩৩ মিটার ব্যাসের একটি গোলাকার উচুঁ মঞ্চ রয়েছে। দুর থেকে শক্রর চলাচল পর্যবেক্ষনের জন্য প্রায় প্রতি দূর্গে এই ব্যবস্থা ছিল। পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই দূর্গটি দেখার জন্য শতশত দেশী বিদেশী পর্যটক আসেন। পুরনো স্মৃতি জানার জন্য স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী আসেন। এই দূর্গটি দেখা পর্যটকদের বারতি আনন্দ যোগায়। মুন্সিগঞ্জ পদ্মাব্রীজ জোনের আওতাধীন স্যার বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়ীতে রয়েছে মিউজিয়াম ও জাদুঘর। এই বিজ্ঞানীর বাড়ীতে যাদুঘর ও ৬টি ঘাট বাধানো পুকুর। এই দৃশ্য উপভোগ করার জন্য অনেক দর্শনার্থী আসেন। স্কুল কলেজের ছাত্ররা বারতি কিছু জানার জন্য শেখার জন্য বিজ্ঞানীর ব্যবহ্নত যাদুঘরে রাখা আসবাবপত্র দেখে অনেক কিছু উপভোগ করতে পারেন। প্রাচীন বিক্রমপুর এককালে ফরিদপুর জেলার বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল। তবে বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঁচটি উপজেলা অর্থাৎ মুন্সিগঞ্জ সদর, সিরাজদীখান, লৌহজং, শ্রীনগর এবং টুঙ্গিবাড়ী থানা ই কেবল বিক্রমপুর পরিচয় বহন করে। প্রাচীনকাল থেকেই বিক্রমপুর শিক্ষা দিক্ষা জ্ঞান বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চায় উপমহাদেশের একটি পীঠস্থান হিসেবে গন্য হয়ে আসছে।

 

 

গাজীপুর জেলার ইতিহাস

 

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সংশ্লেষে কালোত্তীর্ণ মহিমায় আর বর্ণিল দীপ্তিতে ভাস্বর অপার সম্ভাবনায় ভরপুর গাজীপুর জেলা । ইতিহাস খ্যাত ভাওয়াল পরগণার গহীন বনাঞ্চল আর গৈরিক মৃত্তিকা কোষের টেকটিলায় দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক এ জনপদ ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ গাজীপুর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ জেলার উত্তরে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা, দক্ষিণে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান। মোগল-বৃটিশ-পাকিস্তান আমলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গাজীপুরের রয়েছে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বে এ গাজীপুরের মাটিতেই সংঘটিত হয় প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ। এখানে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরসহ ১৯টি কেপি আই, ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের একমাত্র হাইটেক পার্কসহ বহু সংখ্যক সরকারী, স্বায়ত্ব শাসিত, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র/মাঝারী ও ভারী শিল্প কারখানাসহ দেশের তৈরী পোষাক শিল্পের বিরাট অংশ।  ঢাকার সাথে দেশের উত্তরবঙ্গ ও উত্তর পূর্ব অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গাজীপুর গেইটওয়ে হিসেবে বিবেচিত । মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা টংগীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয় । এর প্রাচীন নাম জয়দেবপুর। গাজীপুর রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে অবস্থিত। অনেকগুলো ভারী এবং মাঝারি শিল্প এলাকা নিয়ে এই শহর গড়ে উঠেছে। দেশের সর্ববৃহৎ ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ জেলায় অবস্থিত। এছাড়াও এখানে সরকারি বেসরকারি অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি। দেশে অন্যতম শিল্পনগরী টঙ্গীর অবস্থান এই শহরের মধ্যে। এছাড়া আরও রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন লিঃবাংলাদেশ মেশিন টুলস্ ফ্যাক্টরি লিঃবাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানাবাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।